আপনি আপনার অজান্তে মারাত্মক হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত নস্তো ?
কিভাবে বুঝবেন আপনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত?
হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। হেপাটাইটিস নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমিত দশজনের নয়জনেই জানে না যে শরীরে ভাইরাস তারা বহন করছেন। অনেকে এ সম্পর্কে হয়তো জানতে পারেন লিভার সিরোসিস হওয়ার পরে। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিস্তার না ঘটা পর্যন্ত এই রোগের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে জ্বর, দুর্বলতা, অবসাদ, বমিবমিভাব, পেটব্যথা শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে পানি আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে। এমনকি রোগী চেতনাও হারাতে পারেন।
★হেপাটাইটিস যে ভাবে ছড়ায়:
হেপাটাইটিস A এবং E ভাইরাস খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় কিন্তু হেপাটাইটিস B ও C ভাইরাস ছড়ায় মূলত রক্ত এবং মানবদেহের তরল পদার্থের মাধ্যমে। এটা নীরবে একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। হেপাটাইটিস B ও C অনেকটা এইডসের মতো।
হেপাটাইটিস B ও C ভাইরাস রক্তে সংক্রমণের পর ২ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সাধারণত রক্ত পরীক্ষায় এই ভাইরাস ধরা পড়ে না। এ সময় কেউ যদি রক্ত আদান-প্রদান করেন তাহলে অগোচরেই এই
ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন। হেপাটাইটিস এড়াতে যা করবেন
লিভার বিশেষজ্ঞরা হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে দূরে থাকার জন্য যেসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন তা হলো কাঁচা সালাদ, ফলমূল বেশি খাবেন। তেল-চর্বি যুক্ত খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গরু বা খাসির মাংস যেগুলো লাল মাংস হিসেবে পরিচিত এগুলো খাবেন না।
লবণ বা সোডিয়াম সল্ট একেবারেই খাবেন না। ভিটামিন B, Anty Oxident যথা বিটা ক্যারোটিন,
Vitamin C, Vitamin E যুক্ত খাবার বেশি খাবেন।
এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট হাঁটবেন। ব্যায়ামের অভ্যাস করবেন। দিনে একবেলার বেশি ভাত খাবেন না, দুই বেলা রুটি খাবেন। প্রচুর বিশ্রাম নিবেন এবং শৃঙ্খলিত জীবন যাপনের চেষ্টা করবেন।
তা হলেই মারাত্মক রোগ হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে পারবেন।


0 মন্তব্যসমূহ